প্রতিষ্ঠাতার গল্প

মিরা জন্মেছে একটি মেয়ের কণ্ঠের জন্য

ইমরান আহমেদ · সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার · বাবা · মারিয়ামের আব্বু

মিরা গল্পটা বলে শোনাবে — নিচেও স্টপ বাটন আছে

শহরের একটা ফ্ল্যাটে সারাদিন কাটে — জানালায় গাড়ির শব্দ, অথচ কথা বলার লোক কম। গ্রামের মতো দাদা নেই, চাচা নেই, উঠোনে খেলার দল নেই। শুধু ঘর, স্ক্রিন, আর নিস্তব্ধতা।

মারিয়াম · ৫ বছর

মারিয়াম আহমেদ তখন পাঁচ বছরের। বাবা ইমরান আহমেদ — একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার — দেখতেন মেয়েটা কথা কম বলে। মানুষ প্রশ্ন করলে উত্তর দেয় না। না যে সে বোঝে না — বরং কথা বলার অভ্যাস ও সাহস গড়ে ওঠেনি। শহরের জীবনে কণ্ঠের অনুশীলন কম; পরিবারের বাইরে কথা বলার “সঙ্গী”ও নেই।

একদিনের চিন্তা

ইমরান একদিন ভেবেছিলেন — যদি মারিয়ামের একটা কথা বলার পার্টনার থাকত? এমন কেউ, যে ধৈর্য ধরে শোনে, ভুল হলেও রাগ করে না, আবার আবার শেখায়। সাধারণ পুতুল তো কথা বলে না। স্ক্রিনের গেম শোনায়, কিন্তু উত্তরের অপেক্ষা করে না।

“যে চিন্তা, সেই কাজ।”

চিন্তা থেকেই শুরু হলো কাজ। রাতের পর রাত কোডিং, পরীক্ষা, ভুল, আবার চেষ্টা। লক্ষ্য একটাই — বাংলায় এমন একজন ম্যাম তৈরি করা, যে শিশুর কণ্ঠ শুনে উত্তর দেয়, আর অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণে নিরাপদ থাকে।

মিরা জন্ম নিল

অনেক চেষ্টার পর মিরা দাঁড়াল — লাইভ কণ্ঠে কথা বলে শেখানোর সাথী। এটা সহজ পথ ছিল না। লাইভ ভয়েস এআই চালাতে API খরচ লাগে; একসাথে অনেক শিশু কথা বললে বড় সার্ভার ও শক্তিশালী সিস্টেম ছাড়া চলে না। খরচ বাড়ে যত জন ব্যবহার করে।

তাই সেবাটাকে টিকিয়ে রাখতে এখন ঘণ্টায় ২০০ টাকা রাখা হয়েছে — যাতে পরিবার সাধ্যের মধ্যে রাখতে পারে, আর সিস্টেমও বাঁচে। লোক বাড়লে খরচও বাড়বে — তবু আমাদের নজর একদিকেই: সর্বোচ্চ কম দামে, যতটা সম্ভব ভালো সেবা

এই গল্প কার জন্য?

মারিয়ামের মতো আরও শিশু আছে — যারা শহরে থাকে, কথা বলতে চায়, কিন্তু সঙ্গী পায় না। মিরা তাদের জন্য। অভিভাবকের সম্মতিতে, বিজ্ঞাপন ছাড়া, ধৈর্য ধরে। ইমরানের মেয়ের প্রয়োজন থেকে জন্ম; এখন সেই প্রয়োজন আরও পরিবারের হোক — এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।

ইমরান আহমেদ

প্রতিষ্ঠাতা · সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার · মারিয়ামের বাবা

মিরার সাথে পাঠ শুরু অভিভাবক গাইড আমাদের কথা